ডাক্তার দেখানোর নাম করে রেজিস্ট্রি অফিসে !
আজকের কলারোয়া - 01/06/2020
সম্পর্কের ভাইপো কর্তৃক ডাক্তার দেখানোর নাম করে শহরে এনে রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে ভুল বুঝিয়ে এক নি:সন্তান দম্পতির জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রেজিস্ট্রিকৃত জমির পরিমান ২ বিঘা যার বর্তমান বাজার মুল্য ৪০ লাখ টাকা। ঘটনাটি জেলার কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের বহুড়া গ্রামের। বর্তমানে রাজনৈতিক প্রভাবে প্রতারক চক্র পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বহুড়া গ্রামের মৃত হাজের বিশ^াসের মেয়ে সোনাভান বিবি (৬৫) তার স্বামী ওয়াজেদ আলীকে নিয়ে পিতার প্রাপ্য জমিতে বসবাস করতেন। সোনাভান বিভি নি:সন্তান হওয়ায় চাচাতো ভাইপোরা প্রতিবেশি হিসেবে দেখতো। এরই মধ্যে চাচাতো ভাইপো প্রতিবেশি মৃত ইসমাইল বিশ্বাসের ৩ছেলে ইসরাফিল, আজিজুল ও জাহাঙ্গীরদের কু-নজর পড়ে বৃদ্ধা চাচাতো ফুফু সোনাভান বিবির বসবাসকৃত ৬কাটা ভিটাবাড়িসহ দুই বিঘা জমির উপর। বিগত ৩ মাস পূর্বে সোনাভানের স্বামী ওয়াজেদ আলীর চক্ষু অপরেশনের জন্য খুলনায় যায়। সেখানে সে অবস্থান করে। স্ত্রী একা নি:সন্তান বাড়িতে থাকতে থাকতে সেও অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। সুযোগ বুঝে চাচাতো ভাইপোরা ফুফু সোনাভান বিবিকে চিকিৎসার কথা বলে কলারোয়া হাসপাতালে নিয়ে আসার নাম করে কলারোয়া রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে আসে। সেখানে নিয়ে উক্ত অফিসের এক প্রভাবশালী দলিল লেখকের মাধ্যমে ফুফুর নামে থাকা ৬কাঠা ভিটাবাড়িসহ পুরো দুই বিঘা জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়। এরপর চিকিৎসা ছাড়াই প্রতারক ভাইপোরা ৪দিন পর ফুফুকে বাড়িতে নিয়ে যায়। কিন্তু এরই মধ্যে আসপাশের লোকজন বিষয়টি জানতে পারে। ফুফুকেও বিষয়টি তারা জানায়। কিন্তু কি আর করার জমি তো রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবে প্রতারক চক্ররা ফুফুর জমি লিখে নেয়ার পর তাকে ইতোমধ্যে ভিটাবাড়ি থেকে উচ্ছেদ পূর্বক পুরো জমি দখলে নেয়া হয়েছে। ঘটনাটি বর্তমানে বহুড়া এলাকায় বহু আলোচিত হলেও সমাধানের কোন পথ পাইনি। অবশেষে অসহায় ফুফু সোনাভান ও তার স্বামী এখন নিজের ভাইপো রফিকুল ইসলামের বাড়িতেই অবস্থান। এবিষয়ে স্থানীয় কেরালকাতা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অসহায় বৃদ্ধার জমি প্রতারক চক্র লিখে নিলেও আমরা কিছুই করতে পারছি না। ফলে বৃদ্ধাকে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেয়া হয়। চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ জানান, নি:সন্তান দম্পত্তির এই ঘটনা অত্যন্ত দু:খ জনক। আমরা বিষয়টি মিটমাট করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। এবিষয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা কোন কিছু জানতে চাইলে যা কিছু করার তা ওই বৃদ্ধার জন্য করা হবে। এদিকে অভিযোগের তদন্তকারি কর্মকর্তা কলারোয়া থানার এসআই ইসরাফিল হোসেন রাতে সেল ফোনে জানান, অভিযোগটি আমি গত মাসের ৩ তারিখে পেয়ে ঘটনাস্থলে তদন্তে যাই। অভিযোগটির সত্যতা শতভাগ পেয়েছি। প্রতারক চক্ররা কৌশলে এবং ভুল বুঝিয়ে বৃদ্ধা সোনাভান বিবির জমি লিখে নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মামলার প্রক্রিয়া শুরু হলে স্থানীয় কিছু ব্যাক্তি ওসি স্যারের নিকট থেকে মিটিয়ে দেয়ার কথা বলে সময় নিয়েছিল। এরপর করোনা ভাইরাসের কারণে আর বসা হয়নি। তবে অতি দ্রুত এবিষয়ে মিটমাট না হলে মামলা রেকর্ড করা হবে বলে জানান তিনি।


 



গন্তব্য কলারোয়া    
Product Image Product Image


 
    
Copyright : Kalaroa.com, 2019
Email : info@kalaroa.com