কলারোয়া খাদ্য গুদাম .....
কেজিতে ১টাকা উৎকোচ নিয়ে নিন্ম মানের ধান ক্রয় !

আজকের কলারোয়া - 05/07/2020
করোনার মধ্যে সরকারি বোরো ধান ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নিতীতে আলোচনার শীর্ষে অবস্থান করছে কলারোয়া খাদ্য গুদাম। যদিও হয়রানির অভিযোগে উপজেলার প্রান্তিক বোরো চাষীরা খাদ্য গুদাম ধান বিক্রি না করলেও চিহ্নিত ৪/৫জন ফড়িয়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা আমীন উদ্দিন মোড়ল সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ধান ক্রয় করেছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে লটারীর নামে প্রতারনা এবং গুদামে ধান বিক্রি করতে যাওয়া কৃষকদের সাথে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, আমীন উদ্দিন মোড়ল এধরনের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে জানান, এবছর করোনা ভাইরাসের কারনে লক্ষ্যমাত্র অর্জনে ধান ক্রয়ে কিছু ছাড় দেয়া হচ্ছে। তবে অধিকাংশ ধানই লটারিতে নির্বাচিত কৃষকদের নিকট থেকে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। এদিকে গত কয়েকদিন যাবত সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাধবকাটি, তুজুলপুর ও ঝাউডাঙ্গা বাজারের বিভিন্ন পাইকারী ধানের আড়ত থেকে প্রতিদিন রাতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মে:টন ধান ট্রলিযোগে কলারোয়া খাদ্য গুদামে প্রবেশ করার ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তার দুর্নিতীর বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। জানাগেছে, চলতি বছর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৪শত ৬৮ মেট্রিক টন ধান সরকারি দামে (কেজি প্রতি ২৬ টাকা ) ক্রয় করা হবে। গত ১৯ মে, ২০২০ কলারোয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে মাত্র ২/৩জন জনপ্রতিনিধি সাময়ীক উপস্থিতি ও পরে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লটারির মাধ্যমে ১হাজার ৪শত ৬৮ জন কৃষক নির্বাচিত করেন। নির্বাচিত কৃষকরাই উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারি দামে বোরো ধান বিক্রি করতে পারবেন। যদিও লাটারির আগেই উপজেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ ও খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করেন। এদিকে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আমীন উদ্দিন মোড়লের বিরুদ্ধে লটারির নামে কৃষকের সাথে প্রতারনা করার অভিযোগ করেছেন উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা। তারা জানান, কৃষি অফিস থেকে নিবন্ধিত কৃষক পরিচিতি নম্বর দিয়ে লটারি করা হলে প্রকৃত কৃষকরা জানতে পারে কে বা কারা নির্বাচিত হয়েছে। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা সিন্ডিকেটের সাথে যোগসোজগে এক থেকে ক্রমিক নম্বর দিয়ে লটারি করেন। পরে উক্ত নির্বাচিত ক্রমিক নম্বর ব্যবহার করে তিনি পছন্দের তালিকা অনুযায়ী নাম দিয়ে লটারির ১০ দিন পর নির্বাচিত কৃষকের তালিকা প্রকাশ করেছেন। এসব কৃষকরা দাবি করে বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আবেদনের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা পাঠানো হলেও নির্বাচিত তালিকায় নেই প্রান্তিক কৃষকের নাম। বর্তমান তালিকায় রয়েছে রাজনৈতিক নেতা-কর্মি, ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের নাম রয়েছে বলে জানান এসব প্রান্তিক কৃষকেরা। উপজেলার হেলাতলা, লাঙ্গলঝাড়া, জালালাবাদ, দেয়াড়া কেরালকাতা ইউনিয়ন ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমানে করোনা দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আমীন উদ্দিন মোড়ল কয়েকজন ফাড়িয়ার সাথে কেজি প্রতি ১টাকা ও সরকারি বস্তা বাইরে ব্যবহারের জন্য বস্তা প্রতি ১টাকা উৎকোচ নিয়ে ধান ক্রয় করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর এসব ধান সরবরাহ করা হচ্ছে অন্য জেলা থেকে নিয়ে আসা নিন্ম মানের ধান। এসব ধান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাধবকাটি, তুজুলপুর ও ঝাউডাঙ্গা বাজারের পাইকারি আড়তদার সঞ্জয়, সুবিরসহ কয়েকজন ব্যবসায়ীর ট্রাকে নিয়ে এসে ফাড়িয়াদের কাছে বিক্রি করছে। প্রান্তিক কৃষকদের অভিযোগ চিহ্নিত ফাড়িয়ারা খাদ্যগুদামের বস্তায় ৪১ কেজি ধান ভরে সরসরি গুদামে দিচ্ছে। আর কোন কৃষক গুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে বস্তায় সাড়ে ৪২ কেজি ধান দেয়াসহ ধানের বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে হয়রানি করা হচ্ছে যার কারনে কৃষকরা গুদাম থেকে মুখ ফিরিয়ে লোকসান হলেও বাজারে ধান বিক্রি করছে বলে জানান। সরজমিনে কলারোয়া খাদ্য গুদাম ঘুরে দেখাগেছে, গুদামের মুল ফটক সব সময় বন্ধ থাকে। তবে ভিতরে দেখাগেছে দালাল ও মজুদদারদের ধান ভিতরে প্রবেশ করিয়ে গুদামে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গুদামের এক লেবার বলেন, সন্ধ্যা থেকে গভীর রাতে নিয়ে আসা ধান গুদামের ভিতরে নিয়ে রাখা হয় সকালে সেগুলি গুদামে নিয়ে রাখা হয়। এছাড়া বেলা ১১ টা থেকে কয়েক দফায় ধান নিয়ে আসালে গুদামের ভিতরে প্রবেশ করিয়ে মুল ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়। ধান ক্রয়ের বিষয়ে গুদামের বাইরে থেকে দেখে দেখতে না পাওয়ায় নির্বিঘেœ ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা নিজের ইচ্ছা মত কাজ করছেন। তবে স্থানীয় কৃষকরা জানান, চিহ্নিত ফাড়িয়া সিন্ডিকেট প্রয়োজনে লটারীতে নির্বাচিত কৃষকদের নিকট থেকে ২০০/৩০০ টাকার বিনিময়ে কৃষি কার্ড সংগ্রহ করে একক ভাবে গুদামে ধান সরবরাহ করেছেন আর এর বিনিময়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ও গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেজি প্রতি ১টাকা ও সরকারি বস্তা প্রতি ১টাকা হারে উৎকোচ গ্রহন করছেন। উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক আমিরুল ইসলাম, কেড়াগাছি ইউনিয়নের হাসেম আলী, হাফিজুর রহমানসহ একাধিক প্রান্তিক কৃষকরা জানান, কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষকবান্ধব হলেও খাদ্য বিভাগের এসব অসাধু কর্মকর্তাদের কারনে প্রতি বছরই সরকারি মূল্যে ধান বিক্রি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার প্রান্তিক ও বর্গা কৃষকরা। এমনকি কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ মো: মহাসীন আলী কলারোয়া পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নে মাইকে প্রচারনা করে ইউনিয়ন ভিত্তিক আবেদন পত্র গ্রহন করে প্রান্তিক কৃষকদের সরকারি ভাবে ধান বিক্রি করতে ব্যাপক উৎসাহ দেয়ার পরও খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তার দুর্নিতীর কারনে প্রকৃত কৃষকরা সরকার নির্ধারিত (কেজি প্রতি ২৬ টাকা) দামে ধান বিক্রি করা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। উপজেলার এসব প্রান্তিক কৃষকরা অবিলম্বে দুর্নিতীবাজ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা আমীন উদ্দিন মোড়লকে অবিলম্বে অপসারনের দাবি জানান। একই সাথে তাদের দুর্নিতী তদন্তে দুর্নিতী দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এবিষয়ে কলারোয়া উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আমিনুদ্দীন মোড়ল দুর্নিতী ও লটারি নিয়ে অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে করেন। তবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা পাইকারি বাজার, মাধবকাটি, তুজুলপুর থেকে ট্রলিযোগে দিনে ও রাতে সরকারি বস্তায় কলারোয়া খাদ্য গুদামে ধান প্রবেশ এবং ফাড়িয়াদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি, বলেন করোনার কারনে লক্ষ্যমাত্র অর্জন করতে কিছু ধান অন্য উপজেলা থেকে নিয়ে আসলেও সেটা ক্রয় করা হচ্ছে। তবে সব কিছুই নিয়ম মেনে হচ্ছে বলে এই বর্ককর্তা দাবি করেন। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ও ধান-চাল ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব মইনুল ইসলামের সাথে এবিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। সাতক্ষীরা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো: জাকির হোসেন জানান, এধরনের ঘটনা আমার জানানেই। তবে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


 



গন্তব্য কলারোয়া    
Product Image Product Image


 
    
Copyright : Kalaroa.com, 2019
Email : info@kalaroa.com