|
গেইলের রেকর্ড জিম্বাবুয়েকে ৭৩ রানে হারালওয়েস্ট ইন্ডিজ
আজকের কলারোয়া -
25/02/2015
গেইলে রেকর্ড গড়া ম্যাচে গতকাল মঙ্গলবার
জিম্বাবুয়েকে ৭৩ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট
ইন্ডিজ। ক্যানবেরার
মানুকা ওভালে অনুষ্ঠিত কার্টেল ওভারের
ম্যাচে গেইলের ডাবল সেঞ্চুরি সহ ২১৫ রানে ভর
করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৭২
রান সংগ্রহ করে ক্যারিবীয়রা। বিশ্বকাপে এটি ছিল
সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ এবং প্রথম ডাবল
সেঞ্চুরির ঘটনা। জবাবে ৪৪.৩
ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৮৯ রান সংগ্রহ
করে জিম্বাবুয়ে। যদিও ডিএল পদ্ধতিতে ফলাফল
নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ম্যাচের
শুরুতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ডুয়াইন স্মিথ শুন্য
রানে আউট হবার পর ৩৫ বছর বয়সী গেইল (২১৫)
এবং মারলন স্যামুয়েলস (১৩৩ অপরাজিত)
মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ৩৭২ রান সংগ্রহ করেন।
এটি ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ
পার্টনারশীপের একটি নতুন রেকর্ড। এর
আগে ১৯৯৯ সালে হায়দ্রাবাদে নিউজিল্যান্ডের
বিপক্ষে ভারতীয় সাবেক দুই তারকা ব্যাটসম্যান রাহুল
দ্রাবিড় ও শচীন টেন্ডুলকার মিলে ৩৩২ রান সংগ্রহ
করেছিলেন যা এতদিন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রানের
জুটি ছিল। এদিন ক্যারিয়ারের ৯ হাজার তম ব্যক্তিগত
রানের মাইলফলকটি অতিক্রম করেন গেইল। ২০১৩
সালের জুনে কিংস্টোনের
সাবাইনা পার্কে শ্রীলংকার বিপক্ষে সর্বশেষ
সেঞ্চুরিটি হাকিয়েছিলেন গেইল। এরপর
থেকে কোথায় যেন ছন্দপতন
ঘটে আগ্রাসী এই ব্যাটসম্যানের। শেষ পর্যন্ত
বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে রান
খরা থেকে মুক্তি পেলেন গেইল। এমন
ভাবে তিনি সমালোচকদের
সমালোচনা থেকে মুক্তি নিলেন যেটি এখন
স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে ক্রিকেটের রেকর্ড
বইয়ে। গেইল বলেন, ‘এ সময় আমি প্রচুর
চাপে ছিলাম। আমি কোনভাবেই রান পাচ্ছিলাম না।
এটি আমার ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন। বিপুল সংখ্যক
লোক চাইছিল আমি রান করি। এ জন্য আমি আমার
টুইটারেও অনেক ক্ষুদে বার্তা পেয়েছি। শেষ
পর্যন্ত আমি তাদেরকে কিছু
দিতে পেরে স্বস্তিবোধ করছি।’ ডুয়াইন স্মিথের
শূন্য রানে পতনের পর গেইলের বিশাল ওই
সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাবার পথে তাকে উপযুক্ত
সঙ্গ দিয়েছেন মারলন স্যামুয়েলস। ১৫৬ বলের
মোকাবেলায় ১১টি চার ও তিনটি ছক্কা হাকিয়ে ১৩৩
রান সংগ্রহকারী স্যামুয়েলস শেষ পর্যন্ত অপরাজিত
ছিলেন। এদিকে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রতিপক্ষের
প্রথম বলেই বিদায় ঘন্টা বেজে গিয়েছিল
গেইলের। যদি রিভিউ’র ফলাফল তার পক্ষে না যেত,
তাহলে হয়তো নতুন এই ইতিহাস
রচনা করতে পারতেন না তিনি। তিনাসে পেনিয়াংগারার
প্রথম ওভারে করা অসাধারণ বোলিং আক্রমন
অনেকটাই বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল
ক্যারিবীয়দের। তিনি ওভারের দ্বিতীয়
বলে স্মিথকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠানোর পর
চতুর্থ ডেলিভারিতে লেগ বিফোরের
ফাঁদে ফেলেন গেইলকে। শেষ পর্যন্ত রিভিউর
সহায়তায় এই যাত্রায় বেঁচে যান গেইল।
প্যাডে লাগা বলের বিপরীতে জিম্বাবুইয়ানদের
জোরালো আপীল প্রথমেই নাকচ
করে দিয়েছিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আম্পায়ার স্টিভ
ডেভিস। পরে তারা রেফারেলের স্মরণাপন্ন হয়।
কিন্তু রিপ্লেতে বলটির গতি স্ট্যাম্পের উপরের
দিকে থাকায় টিভি আম্পায়ার গেইলের পক্ষে মত
দেন। গেইল বলেন, ‘আমার একটি সুযোগের
প্রয়োজন ছিল। সেটি পাওয়ার পর আমি সর্বোচ্চ
সুবিধা আদায় করে নিয়েছি। রান সংগ্রহের সময়
আমি কিছুটা চাপে ছিলাম। আমি টুইটার এবং মোবাইল
মারফত আমার সমর্থকদের কাছ থেকে প্রচুর
ক্ষুদে বার্তা পেয়েছি। এত বেশী লোক আমার
কাছ থেকে যে কিছু প্রত্যাশা করছিল
আগে আমি বুঝতে পারিনি। প্রথমবারের মত ডাবল
সেঞ্চুরি হাকাতে পেরে আমি খুশি।’ এই
ম্যাচে সুমুয়েলসও ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছেন।
ব্যক্তিগত ২৭ রানের সময় সেকান্দার রাজার বল
তুলে মারার ফলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ
পেয়েও ফেলে দেন টেন্ডাই চেতারা। এসময়
ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ ছিল এক উইকেটে ৭৩। এদিন
এত সুন্দর ইনিংসটি গেইল অবশ্য সমাপ্তি টেনেছেন
আউট হবার মধ্য দিয়ে। এখানেও ছিল নাটকীয়তা।
মাসাকাদজার ইনিংসের শেষ বলে অর্থাৎ ৪৯.৬
চিগুমবুরার হাতে ধারা পড়ে অপরাজিত থাকার
তালিকা থেকে মুছে যান গেইল। জবাবে সাময়িক
বৃষ্টির কারণে ম্যাচ থেকে ২ ওভার
কেটে নিয়ে জিম্বাবুয়ের সামনে জয়ের জন্য ৪৮
ওভারে ৩৬৩ রান নির্ধারণ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
বিশাল লক্ষ্যকে সামনে রেখে ব্যাটিংয়ের
শুরুতে তারা হোচট খেলেও মিডল অর্ডারের
ব্যাটিং দৃঢ়তায় সেটি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠতে সক্ষম
হয়। সেন উইলিয়ামস (৭৬), ক্রেগ এরভিন (৫২) ও
ব্রেনডন টেইলরের (৩৭) ব্যাটে ভর
করে রানের পাহাড় টপকানোর ‘মিশন
ইম্পসিবলে নেমে’ অনেকটাই সফল
হয়েছে আইসিসি টেস্ট র্যাংকিংয়ের
তলানিতে থাকা দলটি। ফলে শত রানের কম
ব্যবধানে হার মেনেছে দলটি। সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৩৭২/২, ৫০ ওভার (গেইল ২১৫,
স্যামুয়েলস ১৩৩*, মাসাকাদজা ১/৩৯)।
জিম্বাবুয়ে (টার্গেট ৪৮ ওভারে ৩৬৩ রান) : ২৮৯/১০,
৪৪.৩ ওভার (উইলিয়ামস ৭৬, আরভিন ৫২, টেইলর ৩৭,
জেরম টেইলর ৩/৩৮, জেসন হোল্ডার ৩/৪৮)।
ফল : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৩ রানে জয়ী। ম্যাচ অব দ্য
ম্যাচ : ক্রিস গেইল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)।
|