Home
 
বেকার হাজারও মানুষ
ভারতীয় গরু না আসায় খাঁ খাঁ করছে বিভিন্ন স্থানের পশু খাটাল, মাংসের দাম বাড়ছে

আজকের কলারোয়া - 07/06/2015
দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বৃহৎ গরুর খাটালগুলো সাতক্ষীরা ও যশোরের বেনাপোল এলাকায় অবস্থিত। ভারতীয় বিএসএফ সীমান্তে কড়া নজরদারীসহ টহল জোরদার করায় আবারও বন্ধ হয়ে গেছে গরু আসা। সাতক্ষীরার বিভিন্ন খাটালসহ বেনাপোলের পুটখালি গরু খাটালে আসছেনা পশু। শুন্য পড়ে আছে পশুর খাটাল। খাঁ খাঁ করছে বাশ ও টিনের তৈরী খাটাল। এ কারণে বেড়ে গেছে মাংসের দাম। মাংস ক্রেতারা পড়ছেন বেকায়দায়। বেকার হয়ে পড়েছে হাজারও নারী পুরুষসহ ব্যবসায়িরা। সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রতিষ্টান ছেড়ে চলে গেছে অনেকে। সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ হওয়ায় এমন অবস্থায় সৃষ্টি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় কুষকরা দেশীয় গরু পালতে শুরু করেছেন। যশোরের শার্শা নাভারণ শুল্ক করিডরের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, শার্শা পশু ভ্যাট রেজিষ্ট্রেশন অফিস জানিয়েছেন, পুটখালি গরুর খাটালে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিদিন আসতো কয়েক হাজার গরু। গত ২দিনে কোন পুশুর ভ্যাট রেজিষ্ট্রেশন হয়নি এখানে। গত ২০১৪ সালের জানুয়ারী থেকে মে পর্যন্ত ৫মাসে গরুর ভ্যাট রেজিষ্টেশন করা হয় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭২টি। যা ২০১৫সালের জানুয়ারী থেকে মে মাস পর্যন্ত গত ৫মাসে গরুর ভ্যাট করা হয় ৪২ হাজার ৬৯৯টি। যা গত এক সপ্তাহে এসেছে মাত্র ২৩১টি গরু। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে ৪২ হাজার ২১৫টি গরু। এম মাসে যে গরু ভ্যাট হয়েছিল যা ২০১৫সালের ৫মাসেও হয়নি। ২০০৬ সাল পরবর্তীতে স্থলবন্দর বেনাপোলের ৬কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে পুটখালি পল্লীতে গড়ে ওঠে গরু খাটাল (হাট)। ভারত থেকে সীমান্ত পথে আসা গরু জড়ো করা হতো হাটে। পুরোগ্রাম জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বাশ কাঠ ও টিনের তৈরী গরু খাটাল। বিজিবি মাধ্যমে নাভারণ গরু করিডর থেকে বৈধ শুল্ক পরিশোধ করে ট্রাক ভরে গরুর চালান যেতো ঢাকা চিটাগাং ফরিদপুর কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলা শহরে। গরু ব্যবসায়ি, রাখাল, খাটাল মালিক, ইজারাদার, চৌকিদারসহ কয়েক হাজার মানুষের জীবন জীবিকা চলতো গরু ব্যবসায়। গরু ট্রাকভরে বেপারীরা নিযে যায় দেশের অভ্যান্তরে। ট্রাক ও গরুতে ভরে যেত পুরো গ্রাম। কয়েক বছরের ব্যবধানে পুরো গ্রাম যেন শহরে রূপ নেয়। হাজারও মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হতো এখানে। মাঝে মধ্যে ১০/২০টা গরু আসলে সেগুলো খাটাল পর্যন্ত পৌচাচ্ছে না। আজ শুন্য পড়ে আছে বাশের তৈরী বৃহৎ গরু খাটাল। নেই কোন গরু। হাটটি এখন শুধুই স্মৃতি। এ যেন জোয়ার আসা নদীতে ভাটা নেমেছে। তবে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ হওয়ায় চাষীরা নিজ বাড়িতেই দেশী গরু পালতে শুরু করেছেন। স্থানীয়রা মনে করেন, গরু পালন বাড়ালে কমবে মাংসের দাম। ঘাটতি পূরণ হবে আমিষের। কমবে পরনির্ভরতা, বিএসফের নৃশংসতায় মরবে না বাংলাদেশী মানুষ। মাংশ ক্রেতা নাভারণ এলাকার গৃহবধু ফরিদা বেগম বলেন, ৬মাস আগে এককেজি মাংস কিনেছি ২২০ থেকে ২৪০টাকায়। এখন কিনতে হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪শ’ টাকায়। তাদের ১০ সদস্যের পরিবারে মাংশ কিনতে যেয়ে অন্য বাজার করা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই কথা বলেন, মাংস ক্রেতা শার্শার জামাল হোসেন। নাভারণ বাজারের গরু মাংশ ব্যবসায়ি আবু হাসান ও বেনাপোল বাজারের মাংশ ব্যবসায়ি জাহিদ হাসান বলেন, ভারতীয় গরু আসছেনা। বেশী দামে গরু কিনতে হচ্ছে। ফলে মাংসের দাম পড়ে যাচ্ছে বেশি। পুটখারি গ্রামের কৃষক আইজ উদ্দিন মল্লিক বলেন, ভারতীয় গরু আসা বন্ধ হয়ে গেছে। তাই বলেতো দেশের মানুষ না খেয়ে থাকবেনা। তিনি ১৭টি গরু পালছেন, আরো পালবেন। এভাবে গরু পালন শুরু করলে সমস্যা হবেনা। গরু রাখাল আদম আলী বলেন, গরু আসা বন্ধ হওয়ায় খেযে না কেয়ে দিন কাটছে তাদের। স্থানীয়রা জানান, পুটখালি এলাকায় প্রায় দেড় হাজার বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্টান গড়ে ওঠে। গত ৬মাসের ব্যবধানে ৯৮ শতাংশ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়ে পড়েছে কর্মচারীসহ মালিকেরা। সরকারের কাছে বেকার হয়ে পড়া রাখাল ব্যবসায়িরাসহ এলাকাবাসী কর্মসংস্থানের দাবি জানান।


 



গন্তব্য কলারোয়া    
Product Image Product Image


 
    
Copyright : Kalaroa.com, 2019
Email : info@kalaroa.com