|
এক চিকিৎসকের বাড়িভাড়ার ৫লক্ষাধিক টাকা ফেরতের নির্দেশ
আজকের কলারোয়া -
08/06/2015
সাতক্ষীরা সদর
উপজেলার মেডিকেল অফিসার ডা: মুজিবুর
রহমান বছরের পর বছর বাড়ি ভাড়া প্রদান না
করে বেতন উত্তোলন করায় সর্বমোট ৫লাখ
২৭হাজার ৮২০টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ
দিয়েছেন জেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা।
চলতি বছরের ৩মার্চ জেলা হিসাব রক্ষণ
কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম উক্ত টাকা ট্রেজারি
চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা
না দিলে নিয়মিত বেতন বিল তার কার্যালয়
থেকে প্রদান করা সম্ভব হবে না বলে এক
নোটিশে তাকে জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিভিশন কন্ট্রোলার
অব একাউন্টস খুলনা ডিভিশন কর্তৃক পহেলা
জুলাই ২০০৯ থেকে ৩১ অক্টোবর ২০১৩ পর্যন্ত
বাসা ভাড়া বাবদ গৃহীত টাকা ৩লাখ
৭৮হাজার ৩৮০টাকা এবং পহেলা নভেম্বর
২০১৩ থেকে ফেব্র�য়ারী ২০১৫ পর্যন্ত
মাসিক বেতন বিলের সাথে বাড়ি ভাড়া
উত্তোলন করেন। উক্ত সময়ে তিনি বাড়ি
ভাড়া বাবদ ১লাখ ৪৯হাজার ৪৪০টাকা
অনিয়মিতভাবে উত্তোলন করেছেন।
সবমিলিয়ে সরকারি কোষাগারে ট্রেজারি
চালানের মাধ্যমে সর্বমোট ৫লাখ ২৭হাজার
৮২০টাকা জমাদানের নির্দেশ দিয়েছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, যদি যথা সময়ে এই
টাকা জমা না দেয়া হয় নিয়মিত বেতন বিল
অত্র কার্যালয় থেকে প্রদান করা সম্ভব হবে
না।
এদিকে সাতক্ষীরা পরিবার পরিকল্পনা
কেন্দ্রের উপ-পরিচালক ডা: অসিত কুমার
স্বর্ণকার গত বছরের ২৯ মে মহাপরিচালক
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর বরাবর পেশকৃত
এক লিখিত প্রতিবেদনে জানিয়েছেন ডা:
মুজিবুর রহমান সাতক্ষীরা মা ও শিশু কল্যাণ
কেন্দ্রে ৬আগস্ট ২০০৫ তারিখে দায়িত্ব
গ্রহণের পর থেকে অদ্যাবধি কর্মরত আছেন।
তিনি সেখানের বরাদ্দকৃত নির্ধারিত
আবাসিক কোয়াটারে বসবাস করেন না এবং
এ পর্যন্ত তিনি কোন বাড়ি ভাড়া দেন না।
একই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে
সাতক্ষীরা শহরের এসপি বাংলোর পেছনে
নাহার প্যাথলিজ নামক তার নিজস্ব একটি
ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। তিনি অফিস
সময়েও নিজস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসে
ব্যবসা করেন। তিনি মা ও শিশু কল্যাণ
কেন্দ্রের অন কল সিজারিয়ান অপরেশন ও
স্থায়ী পদ্ধতি পুরুষ এর কার্যক্রম সেরেই
আবারো নিজস্ব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে চলে
আসেন। সাতক্ষীরা সদরের ১৪টি ইউনিয়ন
বিশিষ্ট উপজেলার মেডিকেল অফিসার
হলেও তিনি মাঠ পর্যায়ে কোন কাজ করেন
না। তাকে কৈফিয়ত তলব করা হলেও তিনি
তা আমলে নেন না। নিয়মিত বা সেবা
সপ্তাহেও তিনি কোন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য বা
পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কখনও স্থায়ী
পদ্ধতির ক্যাম্প করেন না। তিনি বহু বছর ধরে
সাতক্ষীরায় থেকে অফিস কার্যক্রম ফাকি
দিয়ে নিজের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আর্থিক
ভাবে লাভবান হচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে জেলা
কর্তৃপক্ষ অবস্থান নিলে তিনি কর্তৃপক্ষকে
নানাভাবে হয়রানি বা অপদস্ত করে বদলি
করার হুমকি দেন। বিভাগীয় স্বার্থে তাকে
বদলি করে জেলার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে
আনার সুপারিশ করা হলেও তার বিরুদ্ধে
অদ্যাবদি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি
সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
এব্যাপারে ডা: মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত
সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে একটিতে
বলেন, রিসিভ করে বলেন, স্যার এখন
বাধরুমে। পরে ফোন করেন।
|