|
কলারোয়ায় টিআর কাবিখা প্রকল্পে চলছে হরিলুট !
আজকের কলারোয়া -
08/06/2015
কলারোয়ায় টিআর কাবিখা
প্রকল্পে হরিলুট চলছে। কর্মসৃজনের শ্রমিক
দিয়ে কাবিখার কাজ করে, পুরানো সোলার
দেখিয়ে টিআর কাবিখা প্রকল্প বরাদ্দ আত্মসাৎ করা
হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ অবকাঠামো
উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়ছে।
জেলা ত্রাণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে,
২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে প্রথম কিস্তিতে
কলারোয়া উপজেলায় সাধারণ টিআর খাতে বরাদ্দ
১শ’৩৪ টন চালে ৭৫ প্রকল্প, কাবিখা
খাতে বরাদ্দ ১শ’৪৭ টন চালে ১৫ প্রকল্প এবং
এমপি’র বিশেষ কোটার ১শ’২৫ টন টিআর
চালে ৬৬ প্রকল্প ও কাবিখার ১শ’২৫ টন চালে ১৫
প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর
মধ্যে কাবিখা প্রকল্পে মাটির কাজ করার জন্য
শ্রমিকদের মজুরি হিসেবে চাল দেয়ার
বিধান থাকলেও সমস্ত টিআর কাবিখার চাল সিন্ডিকেট
ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি হয়ে
যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সরকারের
সরবরাহ দেয়া ৩৪ হাজার টাকা টন
দরের চাল ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়া
হয়েছে। ফলে প্রকল্পের কাজ শুরুর আগে
সরকারী বরাদ্দের অর্ধেক নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।
সূত্র মতে, এরপর ১৭ হাজার টাকা টন
দরে বিক্রিত অর্থের আবার টন প্রতি ৩ হাজার টাকা
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা
এবং অফিসে কাগজপত্র খরচ বাবদ টন প্রতি আরো
১হাজার টাকা প্রদান করতে হচ্ছে।
কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা
কর্মকর্তা ডাঃ তৌহিদুর রহমান
বলেন, ‘প্রতি টন চাল ১৭ হাজার টাকা দরে বিক্রি আর
টন প্রতি ৩ হাজার টাকা হারে
আগাম ঘুষ দিতে হবে জানতে পারলে তিনি হাসপাতাল
চত্বরে মাটি ভরাটের কাজে হাত
দিতেন না।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগাম ঘুষ দিয়ে
চাল বিক্রির টাকা নিয়ে এলাকায় ফেরার পরে
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সাথে সংশ্লিষ্টরা টন প্রতি
২/৩ হাজার টাকার কাজ করে
বাকী টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছে। আবার
কোন কোন স্থানে মানুষ ও যান চলাচলে
মাটির রাস্তায় সৃষ্ট খাদ বা উঁচুনীচু স্থান কেটে
সমান করে প্রকল্পের কাজ
সমাপ্ত করা হচ্ছে। এছাড়া সকলকে ভাগ দিতে হয়
বলে প্রভাবশালীরা কোন কাজ না করে
প্রকল্প বরাদ্দ সিংহভাগ গায়েব করছে বলেও
অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে চন্দনপুর ইউনিয়নের বয়ারডাঙ্গা
ইউনূচের মোড় হতে খলিলের বটতলা অভিমুখে
মাটির রাস্তা পুনঃ নির্মাণসহ সোলার প্যানেল স্থাপনে
বরাদ্দ (১৩ মেট্রিক টন
চাল) প্রকল্প এলাকায় গেলে স্থানীয় ওয়ার্ড
আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রিয়াজুল
হকসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক ব্যক্তি জানান,
প্রথম পর্যায়ের ৪০ দিনের
কর্মসৃজন প্রকল্পের মজুর দিয়ে এই রাস্তার
আনুমানিক ১’শ গজ নামমাত্র মাটি দিয়ে
কাবিখা প্রকল্প বরাদ্দ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা
হয়েছে। কর্মসৃজনের মজুর দিয়ে
আরো অনেক স্থানে কাজ করে টিআর কাবিখার
বরাদ্দ চাল তুলে নেয়া হচ্ছে বলেও সূত্র
জানায়।
এদিকে, উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নে বলিয়ানপুর
গ্রামের শিউলী খাতুন (স্বামী
ইউনুস আলী) ও ফিরোজ (পিতা রেজাউল) এর
বাড়িতে প্রায় ২ বছর আগে ব্যক্তিগত ভাবে
বসানো সোলার দেখিয়ে চলতি অর্থ বছরে কাবিখা
প্রকল্প বরাদ্দ ৫টন চাল উত্তোলন করা
হয়েছে বলে ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি
আব্দুল খালেক ও মঞ্জুর আলি নামে স্থানীয়
এক ব্যক্তি জানান। যুগিখালী ইউনিয়নে কামারালী
নাতেক মোল্যার মোড় হতে তরুলিয়া
কার্পেটিং রাস্তা অভিমুখে মাটির রাস্তা পুনঃ নির্মাণ ও
সোলার প্যানেল স্থাপনে
৮ টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। এই রাস্তায় নামমাত্র মাটি
ছড়ানো হয়েছে বলে কামারালী
গ্রামের আনিছুর জানান। কয়লা ইউনিয়নের আলাইপুর
বুঝতলা মোড় থেকে বানুর বাড়ি
অভিমুখে রাস্তা সংস্কার সহ ৩ বাড়িতে সোলার
প্যানেল স্থাপনে বরাদ্দ হয়েছে ৮ টন
চাল। এই রাস্তায় আনুমানিক ১’শ গজে ২ ইঞ্চি করে
মাটি দেয়া হয়েছে।
এব্যাপারে কথা বলার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করে
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার
মোবাইলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
টিআর-কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়ে
সাতক্ষীরা-১ আসনের ( কলারোয়া-তালা) সংসদ
সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, প্রকল্প
বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দুর্নীতির
বিষয় জনসাধারণের কাছ থেকে তিনিও জানতে
পেরেছেন।
|