|
তেঁতুল গাছতলায় চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান
আজকের কলারোয়া -
09/06/2015
সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় শহীদ কাজল
স্মৃতি পশ্চিম
জোড়দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
শ্রেণিকক্ষ না থাকায় গাছতলায় পাঠদান
চলছে।
গ্রীষ্ম বর্ষা শীতে এভাবেই চলে এ স্কুলটি।
প্রচণ্ড গরমে শিক্ষাদান ব্যাহত
হচ্ছে, নাকাল হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।
এতে করে প্রতিদিনই অসুস্থ হয়ে পড়ছে কোন
না কোন শিক্ষার্থী। একটু ঝড় বা বৃষ্টি হলে
বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হন
কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের ৬টি
শ্রেণিকক্ষ পাঠদানের অযোগ্য হয়ে পড়ে
আছে।
৫ম শ্রেণির ৫০ জন শিক্ষার্থীর ক্লাস চলছে
বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে তেঁতুলগাছ
তলায়।
সহকারি শিক্ষক ফিরোজা বেগম ক্লাস
নিচ্ছিলেন তেঁতুলগাছ গাছতলায় তিনি বলেন,
শ্রেণিকক্ষের অভাবে গাছতলায় এভাবে
ক্লাস নিতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি
মো. আনিছুর রহমান জানান, সদর উপজেলা
জোড়দিয়া গ্রামে ১৯৬৫ সালে সাতক্ষীরার
একজন বিশিষ্ট শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে
এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এ বিদ্যালয়টি
প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুলটি অর্ধশত বছর পার
করলেও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন
হয়নি। ২০১৩ সালে সরকারিকরণ হয় এ
বিদ্যালয়টি। ২০১৩ সালে সরকারিকরণের
আগে সভাপতির প্রচেষ্টা ও এলাকাবাসীর
সহযোগিতায় স্কুলের শিক্ষকদের বেতন
ভাতা দেওয়া হতো। বর্তমানে বিদ্যালয়ে
৩শত
ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করছে। ২০১২সাল
থেকে এ পর্যন্ত ৫ম শ্রেণিরর সমাপনি
পরীক্ষায় একশ ভাগ সফলতা রয়েছে। তিনি
অভিযোগ করে বলেন, শ্রেণিকক্ষের বিষয়
একাধিকবার শিক্ষা অফিসার বরাবর
দরখাস্ত করলেও কোন প্রকার সহযোগিতা
করা হচ্ছে
না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল
কাসেম বলেন, টিনের ছাউনি বিশিষ্ট তিনটি
কক্ষ হেলে পড়েছে। টিনে মরিচা ধরে ছিদ্র
হয়ে গেছে। এছাড়া ছাদের তৈরী ৩টি
কক্ষের
ছাদ ফেটে গেছে। গত মে মাসের ভূমিকম্পের
কারণে দেয়ালেও ফাটল ধরে ঝুকিপূর্ণ
অবস্থায় ভবনটি। ১৯৭৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত
তিনি এ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। আর
২মাস পরে তিনি অবসরে যাবেন। অবসরে
যাওয়ার আগে তিনি শিক্ষার্থিদের কষ্টের
অবসান
দেখতে চান।
শিশুশ্রেণির ছাত্র হাসানুর রহমান ও
খাদিজা খাতুন বলেন, গাছতলায় ক্লাস করার
সময়
গরমে খুব কষ্ট হয়। প্রায়ই কেউ না কেউ অসুস্থ
হয়ে পড়ে। অনেক সময় পাখির বিষ্টা
পড়ে বই-খাতা জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়।
একই ধরণের কথা বলেন, ৫ম শ্রেণির সাদিয়া,
সালমা খাতুন (মুন্নী), রিজিয়া খাতুন, রাজু
হোসেন, আব্দুর রহিম, মামুনসহ আরো
অনেক শিক্ষার্থী।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা
আব্দুল আজিজ বলেন, শহীদ কাজল স্মৃতি
পশ্চিম জোড়দিয়া সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষ সংকটের বিষয়টি
গুরুত্বের সাথে দেখছেন।
এলাকাবাসীর দাবি শিক্ষার উন্নতির জন্য
বিদ্যালয়ের নতুন ভবন তৈরী একান্ত জরুরী।
এলাকাবাসী উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের দৃষ্টি
কামনা করেন।
|