|
কাস্টমসের ১০কোটি টাকা মূল্যের পণ্য মাত্র ৩৯ লাখ টাকায় বিক্রির ঘটনাএনবিআরের নির্দেশে কর্মকর্তাদের লিখিত বক্তব্য রেকর্ড করেছে তদন্ত কমিটি
আজকের কলারোয়া -
09/06/2015
সাতক্ষীরায় কাস্টমস
গোডাউনে রক্ষিত ১০ কোটি টাকা মূল্যের
বিভিন্ন পণ্য মাত্র ৩৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকায়
বিক্রির ঘটনায় মঙ্গলবার সাতক্ষীরা
কাস্টমস অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের
লিখিত বক্তব্য রেকর্ড করেছে গঠিত
২সদস্যের তদন্ত কমিটি। খুলনা কাস্টমস
কমিশন অফিসে (সাতক্ষীরা অফিসের) ঘটনার
মূল নায়ক সহকারী কশিশনার মো. আবুল
কাশেমসহ ২জন গোডাউন অফিসার, অফিসের
ক্যাশিয়ার ও ১ জন সরকারী নিলামকারীকে
ডেকে তাদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেন
তদন্ত কমিটি।
খুলনা কাস্টমস কমিশন অফিসের একটি
দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত ২৮ ও ২৯ এপ্রিল
বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, আঞ্চলিক ও
স্থানীয় পত্রিকায় সাতক্ষীরা কাস্টমস
গোডাউনের নিলাম বিক্রির বিভিন্ন অনিয়ম
ও ব্যাপক দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত
হয়। পত্রিকার মাধ্যমে বিষিয়টি জাতীয়
রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট
উর্ধতন মহলের নজরে আসে। সরকারের উর্ধতন
মহলের নির্দেশে খুলনা কাস্টমস কমিশনার
অহেদুল আলম গত ২৯ এপ্রিল দুই সদস্যের তদন্ত
কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির প্রধান করা
হয় খুলনা কাস্টমস কমিশন অফিসের অতিরিক্ত
কমিশনার আহসানুল হককে। সদস্য করা হয় একই
অফিসের এআরও নঈম মিরনকে। তদন্ত কমিটি
গত ১৩ মে সাতক্ষীরায় এসে প্রথম দফায়
তদন্ত করে যান। কিন্তু তদন্ত রিপোর্ট
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে নির্ধারিত সময়ের
মধ্যে না পৌছায়নি। এ কারণে দ্বিতীয় দফায়
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে তদন্তের
বিষয়টি কি হলো তা পুনরায় জানতে চেয়ে
খুলনা কাস্টমস কমিশনের কাছে জানতে
চাওয়া হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের
চেয়ারম্যানের নির্দেশে মঙ্গলবার (৯জুন)
সকালে দ্বিতীয় দফায় সাতক্ষীরা কাস্টমস
অফিসের তৎকালীন সহকারী কমিশনার
(বর্তমানে চট্রোগ্রামে কর্মরত) আবুল কাশেম,
দুই জন গোডাউন অফিসার সোহেল হাওলাদার
ও সোহেলউদ্দিন, অফিসের কোষাধ্যক্ষ মো:
আসাদুজ্জামান এবং সরকারি নিলামকারী
জাহিদুল ইসলামকে তলব করা হয়। তাদের কাছ
থেকে লিখিত বক্তব্য নেন তদন্ত কমিটি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনা কাস্টমস
অফিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, তদন্তে
১৯টি লট নিলামে বিক্রি নিয়ে নানা অনিয়ম
ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমানিত হয়েছে।
সহকারী কমিশনার আবুল কাশেম সাতক্ষীরায়
৯ মাস দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে নানা
অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়ার ঘটনা ২ জন
গোডাউন অফিসার ও সরকারী নিলামকারীর
লিখিত বক্তব্যে প্রমানতি হয়েছে। সহকারী
কমিশনার আবুল কাশেম এ যাত্রায় রক্ষা
পাওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ করে
বেড়াচ্ছেন। নিজেকে রক্ষা করতে নানা
মহলে দেনদরবার অব্যাহত রেখেছেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান খুলনা কাস্টমস এর
অতিরিক্ত কমিশনার আহসানুল হক বলেন,
সঠিক তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সহকারী
কমিশনার, ২জন গোডাউন অফিসার, অফিসের
কোষাধ্যক্ষ ও সরকারী নিলামকারী তাদের
বক্তব্য লিখিত ভাবে দিয়েছে। ২জন
সাংবাদিককে ডাকা হলেও তারা সময়
নিয়েছে। আগামী সপ্তাহে তারা লিখিত
বক্তব্য দেয়ার পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে
তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
|