|
পয়লা ফাল্গুন : ঋতুরাজ বসন্তের ১ম দিন
আজকের কলারোয়া -
12/02/2015
‘আহা আজি এ বসন্তে কত ফুল ফুটে.... ’। ঋতুরাজ বসন্ত।
আগামীকাল শুক্রবার পয়লা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের ১ম দিন। এ দিনে বন- বনান্তে কাননে কাননে পারিজাতের রঙের কোলাহলে ভরে ওঠবে চারদিক। কচি পাতায় আলোর নাচনের মতই বাঙালির মনেও লাগবে রঙের দোলা। হৃদয় হবে উচাটন।
পাতার আড়ালে আবডালে লুকিয়ে থাকা বসন্তের দূত কোকিলের মধুর কুহুকুহু ডাক, ব্যাকুল করে তুলবে অনেক বিরোহী অন্তর। কবি তাই বলেছেন- ‘সে কি আমায় নেবে চিনে/ এই নব ফাল্গুনের দিনে...’। তবে বসন্তের সমীরণ বলছে এ ঋতু সব সময়ই বাঙালীর মিলনের বার্তা বহন করে। কারণ বসন্তেই ভাষা আন্দোলনের মধ্যদিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল। বসন্তেই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিল। এদিনেই অসংখ্য রমনী বাসন্তী রঙে নিজেদের রাঙিয়ে রাজধানীর রাজপথ, পার্ক, বইমেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরসহ
পুরো নগরী সুশোভিত করে তোলে। বসন্তের পূর্ণতার এ দোলা ছড়িয়ে পড়–ক বাংলাদেশের সর্বত্র এবং সারা পৃথিবীর সকল
বাঙালির ঘরে ঘরে। কোকিলের কুহুতান, দখিনা হাওয়া, ঝরা পাতার শুকনো নুপুরের নিক্কন, প্রকৃতির মিলন, সব এ বসন্তেই। তাই বসন্ত মানে পূর্ণতা। বসন্ত মানে নতুন প্রাণের কলরব। বসন্ত মানে একে অপরের হাত ধরে হাঁটা। মিলনের ঋতু বসন্তই মনকে সাজায় বাসন্তী রঙে, মানুষকে করে আনমনা। কবিও তাই ব্যক্ত করেছেন, ‘ফুল ফুটুক, আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’।
বসন্তের এ সময়ে শীতের জীর্ণতাসরিয়েফুলেফুলেসেজেওঠেপ্রকৃতি। গাছে গাছে নতুন পাতা, স্নিগ্ধ সবুজ কচি পাতার ধীর গতিতে বাতাসের সঙ্গে বয়ে চলা জানান দেয় নতুন কিছুর। শীতে খোলসে ঢুকে থাকা বনবনানী অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠে। পলাশ, শিমুল গাছে লাগে আগুন রঙের খেলা। প্রকৃতিতে চলে মধুর বসন্তে সাজ সাজ রব। আর এ সাজে মন রাঙিয়ে গুন গুন করে অনেকেই
কাল গেয়ে উঠবেন- ‘মনেতে ফাগুন এলো..’। বসন্ত তারুণ্যের ঋতু বলেই সবার মনে বেজে ওঠে, কবির ওই বাণী- ‘বসন্ত
ছুঁয়েছে আমাকে। ঘুমন্ত মন তাই জেগেছে, ফাল্গুন আনন্দের দিনে’
|